খুঁজুন
advertisement
advertisement
মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২৪ ভাদ্র, ১৪৩৩

যাদুকাটা নদীতে খেয়া পারাপার বন্ধ | দুর্ভোগে লাখো মানুষ ও পর্যটক

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫:২৬ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
যাদুকাটা নদীতে খেয়া পারাপার বন্ধ | দুর্ভোগে লাখো মানুষ ও পর্যটক

খেয়াঘাটের ছবি

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি 

‎সুনামগঞ্জ জেলার ​যাদুকাটা নদীর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মিয়ারচড়-পাঠানপাড়া খেয়াঘাটটি দুই ইজারাদারের অভ্যন্তরীণ ও দখল সংক্রান্ত দ্বন্দ্বে হঠাৎ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চরম বিপাকে পড়েছেন লাখো সাধারণ মানুষ এবং দূর-দূরান্ত থেকে আসা পর্যটকরা। 

ঘাটের দখল নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধের জেরে পারাপার বন্ধ থাকায় তাহিরপুর ও বিশ্বম্ভরপুরসহ পার্শ্ববর্তী তিনটি উপজেলার যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। এতে একদিকে যেমন স্থবির হয়ে পড়েছে স্থানীয়দের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা, অন্যদিকে বিখ্যাত সব পর্যটন কেন্দ্রে আসা হাজার হাজার দর্শনার্থী পড়েছেন চরম ভোগান্তিতে।

‎স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ইজারাদারদের দ্বন্দ্ব ও হঠাৎ খেয়া বন্ধ যাদুকাটা নদীর মিয়ারচড়-পাঠানপাড়া খেয়াঘাটের ইজারা ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুটি পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। সম্প্রতি এই দ্বন্দ্বে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয় এবং আজ ২৩ জুলাই বৃহস্পতিবার সকালে দেবোত্তর স্টেটের ইজারার দাবিদার শিশির মনির যাদুকাটা নদীর পূর্ব পাড় মিয়ারচড় এলাকায়  ও জেলা পরিষদ থেকে আনা ইজারাদার ওয়াহিদ মিয়া পশ্চিম পাড় পাঠানপাড়া এলাকায় বসে ঘাটের টোল আদায়ের চেষ্টা করে দুই পক্ষ। পরে দুই পক্ষের টোল আদায়ের করার সময় দুই পক্ষের লোকজনের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দিলে

‎একপর্যায়ে ঘাটের স্বাভাবিক খেয়া পারাপার বন্ধ করে দেওয়া হয়। ​কোনো পূর্বঘোষণা ছাড়াই হঠাৎ খেয়া চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় নদীর দুই পাড়ে হঠাৎ করেই আটকে পড়ে শত শত যানবাহন ও হাজার হাজার সাধারণ যাত্রী। ইজারাদারদের নিজস্ব স্বার্থের লড়াইয়ে জিম্মি হয়ে পড়েছে সাধারণ মানুষ। ​স্থবির ৩ উপজেলার জীবনযাত্রা

‎​মিয়ারচর-পাঠানপাড়া খেয়াঘাটটি মূলত সুনামগঞ্জের তাহিরপুর, বিশ্বম্ভরপুর এবং আশপাশের তিন উপজেলার প্রধান সংযোগস্থল হিসেবে ব্যবহৃত হয়। ​সাধারণ মানুষের ভোগান্তি: প্রতিদিন এই ঘাট দিয়ে হাজার হাজার শিক্ষার্থী, হাট-বাজারের ব্যবসায়ী, জরুরি রোগী ও সাধারণ কর্মজীবী মানুষ যাতায়াত করেন। খেয়া বন্ধ থাকায় জরুরি স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজকর্ম ব্যাহত হচ্ছে। দুই পক্ষের দ্বন্দ্বে  ঘাট বন্ধ থাকায় বাধ্য হয়ে  বিকল্প পথ ঘুরে গন্তব্যে পৌঁছাতে হচ্ছে। এতে যেমন অতিরিক্ত সময় অপচয় হচ্ছে, তেমনি কয়েকগুণ বেশি পরিবহন ভাড়া গুনতে হচ্ছে। ​পর্যটন খাতে মারাত্মক প্রভাব

‎​প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অপার লীলাভূমি সুনামগঞ্জের তাহিরপুর প্রতিদিন হাজার হাজার পর্যটকে মুখরিত থাকে। কিন্তু এই খেয়াঘাটটি বন্ধ থাকায় দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা পর্যটকেরা চরম বিপাকে পড়েছেন। ​পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে পৌঁছানো অনিশ্চিত: দর্শনার্থীরা মূলত তাহিরপুরের শিমুল বাগান, বারিক্কার টিলা, নীলাদ্রি লেক, লাকমাছড়া এবং টাঙ্গুয়ার হাওর ভ্রমণের উদ্দেশ্যে এই পথ ব্যবহার করে থাকেন। খেয়া পারাপার বন্ধ থাকায় যাদুকাটা নদীর পাড়ে এসে হাজার হাজার পর্যটক আটকা পড়ছেন। বাধ্য হয়ে অনেকেই দর্শনীয় স্থানগুলো না দেখেই ক্ষোভ ও হতাশা নিয়ে ফিরে যাচ্ছেন। ​জনমনে ক্ষোভ ও প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ দাবি ​দুই ইজারাদারের দ্বন্দ্বে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা ও পর্যটন খাত জিম্মি হয়ে পড়ায় স্থানীয়দের মধ্যে চরম ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। জানাযায়,  সুনামগঞ্জ জেলা পরিষদ থেকে  ইজারা প্রাপ্ত হয়ে গত ১৮/২০ বছর ধরে ভোগদখল করে আসছে তাহিরপুর উপজেলার বালিজুরী ইউনিয়নের মাহতাবপুর গ্রামের মৃত দেওয়ান আলীর ছেলে ইজারা ওয়াহিদ মিয়া(৪৫)।

‎আজ ২৩ জুলাই বৃহস্পতিবার সকালে শিশির মনির নামের একজন ২০/২৫ জনের একটি গ্রুপ নিয়ে দেবোত্তর স্টেটের ইজারাদার দাবি করে ঘাটের দখলে আসে। এই নিয়ে দেবোত্তর স্টেট ও জেলা পরিষদ আনা দুই ইজারাদারের দ্বন্দ্বে সকাল থেকেই বন্ধ থাকে খেয়া পারাপার। যার ফলে চরম ভোগান্তির মধ্যে পড়েছে হাজার হাজার সাধারণ যাত্রীসহ স্থানীয় এলাকাবাসী। স্থানীয়দের ধারণ, ঘাট দখল নিয়ে দুই ইজারাদারের লোকজনের সংঘর্ষে জড়িয়ে ঘটতে পারে যে বড় ধরনের দুর্ঘটনা।  খোঁজ নিয়ে জানা গেছে,মাননীয় হাইকোর্ট বিভাগের সিভিল রিভিশন ২৭৪০/২০২৪ নং মামলায় থাকায় দরপত্র বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিন্নাকুলি,লাউড়েরগড়, বড়ণ্ডপটিলাগাঁও ও মিয়ারচর খেয়াঘাটগুলো ইজারা দেয়া যায়নি বিধায়,জেলা পরিষদের রাজস্ব আদায় খেয়াঘাটগুলোর দখল বজায় রাখা, স্থানীয় জনসাধারণের খেয়া পারাপারের সুবিধা এবং জেলা পরিষদ চলতি বছরের ২৪ জুন মাসিক সভায় ২০২৬-২০২৭ অর্থ বছরের জন্য মোঃ ওয়াহিদ মিয়াকে ৪২ লক্ষ টাকায় টোল খাস আদায়ের অনুমতি প্রদানের জন্য সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে ২০২৬-২০২৭ অর্থ বছরের ২ জুলাই ২০২৬ হতে ৩০ জুন ২০২৭ পর্যন্ত স্থানীয় সরকার বিভাগ কর্তৃক খেয়াঘাটগুলো সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার জন্য খেয়াঘাটগুলো টোল খাস আদায়ে জন্য নির্দেশক্রমে অনুমতি দেয়া হয়।

‎এদিকে,দেবোত্তর ষ্টেটের মালিকানা দাবী করে শিশির আহমেদ জানান,আমি দেবোত্তর ষ্টেটের মালিক কালী চরণ ভজন এর কাছ থেকে এই ঘাটের ইজারা এনেছি। আমি বৈধ্য ইজারাদার। আরেকটি পক্ষ যারা জেলা পরিষদ থেকে এনে ইজারাদার দাবী করছে তারা অবৈধ। মামলা জড়িত থাকার পরেও জেলা পরিষদ কিভাবে হাইকোর্টের আদেশ অন্য করে ইজারা দেয়। কারন এই ঘাট জেলা পরিষদের না।

‎ইজারাদার মোঃ ওয়াহিদ মিয়া জানান,আমরা জেলা পরিষদ থেকে ইজারা এনেছি। শুধু এই বছরেই নয় গত দুই যুগ ধরে আমরা জেলা পরিষদ থেকে এনে এই ঘাট দিয়ে মানুষসহ বিভিন্ন যানবাহন পাড়াপার করছি। আজ হঠাৎ করে একটি পক্ষ দেবোত্তর ষ্টেটের মালিকানা দাবী করে নৌকা পাড়াপাড়ে বাঁধা সৃষ্টি করছে আর আমাদেরকে অবৈধ ইজারাদার বলছে। আমরা জেলা পরিষদ থেকে দীর্ঘ ১৩-১৪ বছর ধরেই ইজারা এনে বৈধভাবেই ঘাট পরিচালনা  করছি।

এ বিষয়ে দেবোত্তর ষ্টেটের মালিক কালী চয়ণ দত্ত চৌধুরী ভজন জানান,আমি কোনো কাগজ শিশির কে দেই নি,তার সাথে আমার কোনো যোগাযোগ নেই। তবে ওই সব ঘাটের মালিক আমি,জেলা পরিষদ ওই সব ঘাট খাশকালেকশন দিতে পারে না। 

‎এই বিষয়ে জেলা পরিষদের নির্বাহী কর্মকর্তা সমর কুমার পাল এর সাথে এই বিষয়ে বার বার মোটোফোনে যোগাযোগ করা হলেও ফোন রিসিভ না করায় ক্ষুদে বার্তা পাঠিয়েও কোনো উত্তর পাওয়া যায় নি।

যোগফল অনলাইন নিউজ ডেস্ক 

কুমিল্লায় গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো দুই শতাধিক অবৈধ স্থাপনা

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫:৫৩ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
কুমিল্লায় গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো দুই শতাধিক অবৈধ স্থাপনা

যোগফল প্রতিবেদক:

কুমিল্লার সদর দক্ষিণে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে সোয়াগাজী উত্তর বাজারে উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে দুই শতাধিক অবৈধ স্থাপনা গুঁড়িয়ে দিয়েছে প্রশাসন।

বুধবার (৮ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টা থেকে সদর দক্ষিণ উপজেলার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে জেলা প্রশাসন ও সড়ক ও জনপথ বিভাগের যৌথ উদ্যোগে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

অভিযানে পাকা, আধাপাকা ও টিনশেডসহ বিভিন্ন ধরনের স্থাপনা ভেঙে ফেলা হয়। এসব স্থাপনার মধ্যে মুদি দোকান, ফার্নিচারের দোকান, ওয়ার্কশপ, মনিহারি দোকানসহ বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ছিল।

প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, সড়কের জায়গা ও ফুটপাত দখল করে এসব স্থাপনা গড়ে ওঠায় দীর্ঘদিন ধরে সোয়াগাজী উত্তর বাজার এলাকায় যান চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছিল। ব্যস্ত সময়ে সড়কের দুই পাশে দোকানপাট বসায় যানবাহনের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হয়ে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হতো। এতে ভোগান্তিতে পড়তেন পরিবহন চালক, পথচারী, ক্রেতা-বিক্রেতা ও শিক্ষার্থীরা।

স্থানীয়রা জানান, এর আগেও বিভিন্ন সময়ে সড়ক ও জনপথ বিভাগ অভিযান চালিয়ে এলাকাটি দখলমুক্ত করেছিল। তবে কিছুদিন পর আবারও একই জায়গায় অবৈধ স্থাপনা গড়ে ওঠায় সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয়নি। এবার একসঙ্গে বিপুলসংখ্যক স্থাপনা উচ্ছেদ করায় সড়ক ও ফুটপাত অনেকটাই দখলমুক্ত হয়েছে।

তবে উচ্ছেদ অভিযান নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা। তাদের অভিযোগ, দোকানের মালামাল ও ব্যবসায়িক সামগ্রী সরিয়ে নেওয়ার জন্য পর্যাপ্ত সময় পাননি তারা। এতে অনেক ব্যবসায়ী আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

ব্যবসায়ী মুখলেছুর রহমান বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তারা এসব স্থাপনায় ব্যবসা করে আসছিলেন। উচ্ছেদের কথা জানলেও মালামাল নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার জন্য পর্যাপ্ত সময় পাওয়া যায়নি। ফলে দোকান ভাঙার সময় অনেক মালামাল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

অন্যদিকে স্থানীয় বাসিন্দা ও পথচারীরা উচ্ছেদ অভিযানকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাদের মতে, সড়ক ও ফুটপাত দখলমুক্ত থাকলে বাজার এলাকায় যান চলাচলে শৃঙ্খলা ফিরবে এবং দীর্ঘদিনের যানজট ও জনদুর্ভোগ কমবে।

সড়ক ও জনপথ বিভাগের কুমিল্লার উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মো. আদনান ইবনে হাসান বলেন, মহাসড়কের জায়গা দখল করে কোনো ধরনের স্থাপনা নির্মাণের সুযোগ নেই। জনস্বার্থে সড়ক ও ফুটপাত দখলমুক্ত রাখতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

তিনি বলেন, একাধিকবার মাইকিং ও নোটিশের মাধ্যমে দখলদারদের স্থাপনা সরিয়ে নিতে বলা হয়েছিল। কিন্তু নির্দেশনা অনুযায়ী স্থাপনা না সরানোয় শেষ পর্যন্ত উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।

সদর দক্ষিণ উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সুজন চন্দ্র রায় বলেন, দখলদারদের আগে থেকেই মাইকিং ও নোটিশের মাধ্যমে সতর্ক করা হয়েছিল। স্থাপনা সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশনা না মানায় আইন অনুযায়ী উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।

তানজিলা / অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম

শেখ হাসিনার আসতে হবে না, তাকে ধরে আনতে চাই: তথ্য উপদেষ্টা

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫:১৩ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
শেখ হাসিনার আসতে হবে না, তাকে ধরে আনতে চাই: তথ্য উপদেষ্টা

 যোগফল প্রতিবেদক:

ভারতে অবস্থানরত আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকারের অবস্থান দৃঢ় বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেছেন, শেখ হাসিনা নিজে দেশে ফিরুন বা তাকে ফিরিয়ে আনা হোক—সরকার প্রত্যর্পণের দাবি থেকে সরে আসবে না।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে সরকারের কর্মকাণ্ড তুলে ধরতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তথ্য উপদেষ্টা।

শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের বিষয়টি ভারতের ওপর চাপ তৈরির কৌশল হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে—এমন আলোচনা নাকচ করে জাহেদ উর রহমান বলেন, শেখ হাসিনা বর্তমানে একজন পলাতক আসামি এবং তার বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের রায় রয়েছে। তাকে দেশে ফিরিয়ে এনে আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি করাই সরকারের লক্ষ্য বলে জানান তিনি।

তিনি বলেন, শেখ হাসিনা নিজে দেশে আসুন কিংবা সরকার তাকে ফিরিয়ে আনুক, প্রত্যর্পণের দাবি বাস্তবায়নে সরকার কাজ করে যাবে। এ বিষয়ে কোনো কৌশল বা ভিন্ন উদ্দেশ্য নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সম্প্রতি শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলন এবং ভারতের বিভিন্ন গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দেওয়ার বিষয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেন তথ্য উপদেষ্টা। তার ভাষ্য, শেখ হাসিনার এ ধরনের বক্তব্য বাংলাদেশের জন্য বিরক্তিকর ও সংবেদনশীল। এ বিষয়ে ভারত সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করা প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

জাহেদ উর রহমান বলেন, দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নে ভারত চাইলে কিছু ইতিবাচক পদক্ষেপ নিতে পারে। বিশেষ করে শেখ হাসিনার বিভিন্ন বক্তব্য ও গণমাধ্যমে উপস্থিতির বিষয়ে ভারতের অবস্থান পরিষ্কার করা প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।

ভারতীয় হাইকমিশনারের কাছে এ বিষয়ে প্রশ্ন করার জন্য সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, শেখ হাসিনার বক্তব্য বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে কী ধরনের প্রতিক্রিয়া তৈরি করছে, সেটি ভারতের বোঝা উচিত। দুই দেশের মধ্যে আস্থার পরিবেশ তৈরির প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করে ভারতে চলে যান শেখ হাসিনা। এরপর থেকে তিনি দেশটিতে অবস্থান করছেন। সম্প্রতি আগামী ডিসেম্বর মাসে দেশে ফেরার ঘোষণা দেওয়ার কথা জানা গেছে।

সাদিয়া পারভিন / অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম

বাঘারপাড়ায় সাক্ষরতা দিবসে দক্ষতা উন্নয়নের তাগিদ

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫:২৫ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
বাঘারপাড়ায় সাক্ষরতা দিবসে দক্ষতা উন্নয়নের তাগিদ

 যোগফল প্রতিবেদক:

সাক্ষরতা অর্জন করি, দক্ষতা উন্নয়ন করি’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে যশোরের বাঘারপাড়ায় আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস উদযাপন করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) উপজেলা পরিষদ হলরুমে এ উপলক্ষে বিশেষ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

উপজেলা প্রশাসন ও উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ভূপালী সরকার। অনুষ্ঠানে উপজেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা ও স্থানীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা উপস্থিত ছিলেন।

আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, জাতীয় উন্নয়ন ও অগ্রগতির জন্য সাক্ষরতার কোনো বিকল্প নেই। তবে শুধু পড়তে ও লিখতে পারার মধ্যে সাক্ষরতার লক্ষ্য সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না। মানুষের অর্থনৈতিক সক্ষমতা বাড়াতে শিক্ষার পাশাপাশি কারিগরি ও বাস্তবমুখী দক্ষতা অর্জনের সুযোগ তৈরি করতে হবে।

বক্তারা আরও বলেন, নিরক্ষরমুক্ত পরিবেশ গড়ে তোলা, সবার জন্য শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করা এবং সামাজিক অংশগ্রহণ বাড়ানোর মাধ্যমে একটি আত্মনির্ভরশীল ও সমৃদ্ধ সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব। এ লক্ষ্য অর্জনে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়।

সাদিয়া পারভিন / অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম