খুঁজুন
advertisement
advertisement
রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৯ কার্তিক, ১৪৩৩

যাদুকাটা নদীতে খেয়া পারাপার বন্ধ | দুর্ভোগে লাখো মানুষ ও পর্যটক

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৪৪ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
যাদুকাটা নদীতে খেয়া পারাপার বন্ধ | দুর্ভোগে লাখো মানুষ ও পর্যটক

খেয়াঘাটের ছবি

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি 

‎সুনামগঞ্জ জেলার ​যাদুকাটা নদীর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মিয়ারচড়-পাঠানপাড়া খেয়াঘাটটি দুই ইজারাদারের অভ্যন্তরীণ ও দখল সংক্রান্ত দ্বন্দ্বে হঠাৎ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চরম বিপাকে পড়েছেন লাখো সাধারণ মানুষ এবং দূর-দূরান্ত থেকে আসা পর্যটকরা। 

ঘাটের দখল নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধের জেরে পারাপার বন্ধ থাকায় তাহিরপুর ও বিশ্বম্ভরপুরসহ পার্শ্ববর্তী তিনটি উপজেলার যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। এতে একদিকে যেমন স্থবির হয়ে পড়েছে স্থানীয়দের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা, অন্যদিকে বিখ্যাত সব পর্যটন কেন্দ্রে আসা হাজার হাজার দর্শনার্থী পড়েছেন চরম ভোগান্তিতে।

‎স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ইজারাদারদের দ্বন্দ্ব ও হঠাৎ খেয়া বন্ধ যাদুকাটা নদীর মিয়ারচড়-পাঠানপাড়া খেয়াঘাটের ইজারা ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুটি পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। সম্প্রতি এই দ্বন্দ্বে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয় এবং আজ ২৩ জুলাই বৃহস্পতিবার সকালে দেবোত্তর স্টেটের ইজারার দাবিদার শিশির মনির যাদুকাটা নদীর পূর্ব পাড় মিয়ারচড় এলাকায়  ও জেলা পরিষদ থেকে আনা ইজারাদার ওয়াহিদ মিয়া পশ্চিম পাড় পাঠানপাড়া এলাকায় বসে ঘাটের টোল আদায়ের চেষ্টা করে দুই পক্ষ। পরে দুই পক্ষের টোল আদায়ের করার সময় দুই পক্ষের লোকজনের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দিলে

‎একপর্যায়ে ঘাটের স্বাভাবিক খেয়া পারাপার বন্ধ করে দেওয়া হয়। ​কোনো পূর্বঘোষণা ছাড়াই হঠাৎ খেয়া চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় নদীর দুই পাড়ে হঠাৎ করেই আটকে পড়ে শত শত যানবাহন ও হাজার হাজার সাধারণ যাত্রী। ইজারাদারদের নিজস্ব স্বার্থের লড়াইয়ে জিম্মি হয়ে পড়েছে সাধারণ মানুষ। ​স্থবির ৩ উপজেলার জীবনযাত্রা

‎​মিয়ারচর-পাঠানপাড়া খেয়াঘাটটি মূলত সুনামগঞ্জের তাহিরপুর, বিশ্বম্ভরপুর এবং আশপাশের তিন উপজেলার প্রধান সংযোগস্থল হিসেবে ব্যবহৃত হয়। ​সাধারণ মানুষের ভোগান্তি: প্রতিদিন এই ঘাট দিয়ে হাজার হাজার শিক্ষার্থী, হাট-বাজারের ব্যবসায়ী, জরুরি রোগী ও সাধারণ কর্মজীবী মানুষ যাতায়াত করেন। খেয়া বন্ধ থাকায় জরুরি স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজকর্ম ব্যাহত হচ্ছে। দুই পক্ষের দ্বন্দ্বে  ঘাট বন্ধ থাকায় বাধ্য হয়ে  বিকল্প পথ ঘুরে গন্তব্যে পৌঁছাতে হচ্ছে। এতে যেমন অতিরিক্ত সময় অপচয় হচ্ছে, তেমনি কয়েকগুণ বেশি পরিবহন ভাড়া গুনতে হচ্ছে। ​পর্যটন খাতে মারাত্মক প্রভাব

‎​প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অপার লীলাভূমি সুনামগঞ্জের তাহিরপুর প্রতিদিন হাজার হাজার পর্যটকে মুখরিত থাকে। কিন্তু এই খেয়াঘাটটি বন্ধ থাকায় দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা পর্যটকেরা চরম বিপাকে পড়েছেন। ​পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে পৌঁছানো অনিশ্চিত: দর্শনার্থীরা মূলত তাহিরপুরের শিমুল বাগান, বারিক্কার টিলা, নীলাদ্রি লেক, লাকমাছড়া এবং টাঙ্গুয়ার হাওর ভ্রমণের উদ্দেশ্যে এই পথ ব্যবহার করে থাকেন। খেয়া পারাপার বন্ধ থাকায় যাদুকাটা নদীর পাড়ে এসে হাজার হাজার পর্যটক আটকা পড়ছেন। বাধ্য হয়ে অনেকেই দর্শনীয় স্থানগুলো না দেখেই ক্ষোভ ও হতাশা নিয়ে ফিরে যাচ্ছেন। ​জনমনে ক্ষোভ ও প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ দাবি ​দুই ইজারাদারের দ্বন্দ্বে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা ও পর্যটন খাত জিম্মি হয়ে পড়ায় স্থানীয়দের মধ্যে চরম ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। জানাযায়,  সুনামগঞ্জ জেলা পরিষদ থেকে  ইজারা প্রাপ্ত হয়ে গত ১৮/২০ বছর ধরে ভোগদখল করে আসছে তাহিরপুর উপজেলার বালিজুরী ইউনিয়নের মাহতাবপুর গ্রামের মৃত দেওয়ান আলীর ছেলে ইজারা ওয়াহিদ মিয়া(৪৫)।

‎আজ ২৩ জুলাই বৃহস্পতিবার সকালে শিশির মনির নামের একজন ২০/২৫ জনের একটি গ্রুপ নিয়ে দেবোত্তর স্টেটের ইজারাদার দাবি করে ঘাটের দখলে আসে। এই নিয়ে দেবোত্তর স্টেট ও জেলা পরিষদ আনা দুই ইজারাদারের দ্বন্দ্বে সকাল থেকেই বন্ধ থাকে খেয়া পারাপার। যার ফলে চরম ভোগান্তির মধ্যে পড়েছে হাজার হাজার সাধারণ যাত্রীসহ স্থানীয় এলাকাবাসী। স্থানীয়দের ধারণ, ঘাট দখল নিয়ে দুই ইজারাদারের লোকজনের সংঘর্ষে জড়িয়ে ঘটতে পারে যে বড় ধরনের দুর্ঘটনা।  খোঁজ নিয়ে জানা গেছে,মাননীয় হাইকোর্ট বিভাগের সিভিল রিভিশন ২৭৪০/২০২৪ নং মামলায় থাকায় দরপত্র বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিন্নাকুলি,লাউড়েরগড়, বড়ণ্ডপটিলাগাঁও ও মিয়ারচর খেয়াঘাটগুলো ইজারা দেয়া যায়নি বিধায়,জেলা পরিষদের রাজস্ব আদায় খেয়াঘাটগুলোর দখল বজায় রাখা, স্থানীয় জনসাধারণের খেয়া পারাপারের সুবিধা এবং জেলা পরিষদ চলতি বছরের ২৪ জুন মাসিক সভায় ২০২৬-২০২৭ অর্থ বছরের জন্য মোঃ ওয়াহিদ মিয়াকে ৪২ লক্ষ টাকায় টোল খাস আদায়ের অনুমতি প্রদানের জন্য সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে ২০২৬-২০২৭ অর্থ বছরের ২ জুলাই ২০২৬ হতে ৩০ জুন ২০২৭ পর্যন্ত স্থানীয় সরকার বিভাগ কর্তৃক খেয়াঘাটগুলো সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার জন্য খেয়াঘাটগুলো টোল খাস আদায়ে জন্য নির্দেশক্রমে অনুমতি দেয়া হয়।

‎এদিকে,দেবোত্তর ষ্টেটের মালিকানা দাবী করে শিশির আহমেদ জানান,আমি দেবোত্তর ষ্টেটের মালিক কালী চরণ ভজন এর কাছ থেকে এই ঘাটের ইজারা এনেছি। আমি বৈধ্য ইজারাদার। আরেকটি পক্ষ যারা জেলা পরিষদ থেকে এনে ইজারাদার দাবী করছে তারা অবৈধ। মামলা জড়িত থাকার পরেও জেলা পরিষদ কিভাবে হাইকোর্টের আদেশ অন্য করে ইজারা দেয়। কারন এই ঘাট জেলা পরিষদের না।

‎ইজারাদার মোঃ ওয়াহিদ মিয়া জানান,আমরা জেলা পরিষদ থেকে ইজারা এনেছি। শুধু এই বছরেই নয় গত দুই যুগ ধরে আমরা জেলা পরিষদ থেকে এনে এই ঘাট দিয়ে মানুষসহ বিভিন্ন যানবাহন পাড়াপার করছি। আজ হঠাৎ করে একটি পক্ষ দেবোত্তর ষ্টেটের মালিকানা দাবী করে নৌকা পাড়াপাড়ে বাঁধা সৃষ্টি করছে আর আমাদেরকে অবৈধ ইজারাদার বলছে। আমরা জেলা পরিষদ থেকে দীর্ঘ ১৩-১৪ বছর ধরেই ইজারা এনে বৈধভাবেই ঘাট পরিচালনা  করছি।

এ বিষয়ে দেবোত্তর ষ্টেটের মালিক কালী চয়ণ দত্ত চৌধুরী ভজন জানান,আমি কোনো কাগজ শিশির কে দেই নি,তার সাথে আমার কোনো যোগাযোগ নেই। তবে ওই সব ঘাটের মালিক আমি,জেলা পরিষদ ওই সব ঘাট খাশকালেকশন দিতে পারে না। 

‎এই বিষয়ে জেলা পরিষদের নির্বাহী কর্মকর্তা সমর কুমার পাল এর সাথে এই বিষয়ে বার বার মোটোফোনে যোগাযোগ করা হলেও ফোন রিসিভ না করায় ক্ষুদে বার্তা পাঠিয়েও কোনো উত্তর পাওয়া যায় নি।

যোগফল অনলাইন নিউজ ডেস্ক 

নোয়াখালীতে কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে আটক ৪৬

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ৫:০০ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
নোয়াখালীতে কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে আটক ৪৬

ছবি সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক:

নোয়াখালীতে কিশোর গ্যাংবিরোধী বিশেষ অভিযানে ৪৬ জনকে আটক করেছে পুলিশ। শনিবার (২৪ অক্টোবর) সকাল ৮টা থেকে রোববার (২৫ অক্টোবর) সকাল ৮টা পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।

রোববার (২৫ অক্টোবর) জেলা পুলিশের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

পুলিশ জানায়, জেলা পুলিশ সুপার এন এম নাসিরুদ্দিনের নির্দেশনায় কিশোর গ্যাংয়ের অপতৎপরতা প্রতিরোধ, কিশোরদের অপরাধে জড়িয়ে পড়া রোধ, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সামাজিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে জেলার বিভিন্ন থানায় নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৪ ঘণ্টায় ৪৬ জনকে আটক করা হয়।

পুলিশের তথ্যমতে, সুধারাম মডেল থানায় সাতজন, কোম্পানীগঞ্জ থানায় আটজন, কবিরহাট থানায় চারজন, বেগমগঞ্জ মডেল থানায় আটজন, সোনাইমুড়ী থানায় একজন, চাটখিল থানায় চারজন এবং চরজব্বর থানায় পাঁচজনকে মুচলেকা নিয়ে পরিবারের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া হাতিয়া থানায় আটক নয়জনের মধ্যে পাঁচজনের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশন দাখিল করা হয়েছে। একজনকে গ্রেপ্তারি পরোয়ানামূলে আদালতে পাঠানো হয়েছে এবং বাকি তিনজনকে মুচলেকা নিয়ে পরিবারের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে।

নোয়াখালীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) আবু তৈয়ব মো. আরিফ হোসেন বলেন, কিশোর গ্যাংয়ের অপতৎপরতা ও অপরাধপ্রবণতা প্রতিরোধে পুলিশের নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি কিশোরদের জন্য সুস্থ ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে অভিভাবক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি ও সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে নিয়ে জনসচেতনতামূলক এবং সামাজিক প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।

তুলি আক্তার/ অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম

প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে ফেসবুকে মন্তব্য, যুবকের ৭ দিনের রিমান্ড

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ৪:৪৭ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে ফেসবুকে মন্তব্য, যুবকের ৭ দিনের রিমান্ড

ছবি সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক:

ফেসবুকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে বহনকারী বাসের ছবি নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করার অভিযোগে গ্রেপ্তার মো. আবু বকর সিদ্দিক (২২) নামের এক যুবকের সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। শুনানিতে ওই যুবক দাবি করেছেন, তিনি মজা করে মন্তব্যটি করেছিলেন এবং তার কোনো অসৎ উদ্দেশ্য ছিল না।

রোববার (২৫ অক্টোবর) দুপুরে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারাহ্ ফারজানা হক শুনানি শেষে এ রিমান্ডের আদেশ দেন।

এদিন আসামিকে আদালতে হাজির করে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা, ডিবির সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (উত্তর) বিভাগের অর্গানাইজড ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন টিমের উপপরিদর্শক মো. ইয়াছিন পাইক সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষে অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর সামছুদ্দোহান সুমন রিমান্ডের পক্ষে শুনানি করেন। আসামিপক্ষে কোনো আইনজীবী ছিলেন না।

শুনানির একপর্যায়ে বিচারক আসামির বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘কমেন্টটি মজা করে করছি। কোনো উদ্দেশ্য ছিল না। ভুল হয়ে গেছে।’

পরে আদালত তার সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

শুনানি শেষে তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, আসামি নিজের ভুল স্বীকার করেছেন। তবে প্রধানমন্ত্রীর বাসের ছবি নিয়ে করা মন্তব্যটি নিছক মন্তব্য ছিল না বলে মনে করছে রাষ্ট্রপক্ষ। ঘটনার রহস্য উদ্‌ঘাটনে তাকে রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে।

রিমান্ড আবেদনে যেসব তথ্য

রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, মামলার প্রকৃত রহস্য উদ্‌ঘাটন এবং এজাহারে উল্লেখ করা অজ্ঞাতনামা আরও দুই থেকে তিনজনকে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে আসামিকে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন।

আবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, আসামি ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়ে স্বীকার করেছেন বলে তদন্তসংশ্লিষ্টদের দাবি। প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা নিয়ে করা মন্তব্যের পেছনে কোনো সুসংগঠিত সন্ত্রাসী গোষ্ঠী, স্নাইপার বা অস্ত্র সরবরাহকারী চক্র জড়িত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে চায় পুলিশ।

এ ছাড়া আসামির সঙ্গে কোনো নিষিদ্ধ সংগঠন বা সংঘবদ্ধ চক্রের সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, ঘটনার নেপথ্যে কোনো পরিকল্পনাকারী বা মাস্টারমাইন্ড আছে কি না এবং জব্দ করা মোবাইল ফোনের বাইরে অন্য কোনো ডিজিটাল আলামত রয়েছে কি না, তা তদন্তের প্রয়োজনীয়তার কথা রিমান্ড আবেদনে উল্লেখ করা হয়।

এর আগে গত ২৩ অক্টোবর আবু বকর সিদ্দিককে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছিলেন আদালত।

যে মন্তব্য ঘিরে মামলা

মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ২১ অক্টোবর ফেসবুকের ‘দ্য বিউটি অব রাজশাহী’ নামের একটি গ্রুপে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে বহনকারী একটি বাসের তিনটি ছবি পোস্ট করা হয়। পোস্টের ক্যাপশনে রাজশাহীতে প্রধানমন্ত্রীর জন্য লাল-সবুজ রঙের বুলেটপ্রুফ বাসের পরিবর্তে রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) বাস ব্যবহারের বিষয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছিল।

ওই পোস্টের মন্তব্যের ঘরে ‘এমডি আবু বকর সিদ্দিক’ নামের একটি ফেসবুক আইডি থেকে লেখা হয়, ‘ইস একটা বড় সুযোগ ছিলো, শুধু একটা স্নাইপার এর অভাব ছিলো।’

পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় আইডিটির ব্যবহারকারীকে শনাক্ত করে রাজশাহী মহানগরীর পবা থানার ঘোলহাড়িয়া দক্ষিণপাড়া এলাকা থেকে আবু বকর সিদ্দিককে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তার বাবা মো. আয়নাল হককেও আটক করা হয়েছিল। তবে প্রাথমিক তদন্তে তার বাবার সংশ্লিষ্টতা না পাওয়ায় তাকে ছেড়ে দেওয়া হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

গ্রেপ্তারের পর আবু বকর সিদ্দিকের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়। রিমান্ড আবেদনে দাবি করা হয়েছে, ফোনটি পর্যালোচনা করে বিভিন্ন ফেসবুক পেজ ও গ্রুপে আপত্তিকর মন্তব্যের তথ্য পাওয়া গেছে।

এ ঘটনায় ডিবির সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (উত্তর) বিভাগের উপপরিদর্শক মো. মানিক হোসেন সন্ত্রাসবিরোধী আইনে রাজধানীর রমনা থানায় মামলাটি করেন। মামলার তদন্তে আসামির বক্তব্য, ডিজিটাল আলামত এবং অন্য কারও সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

তুলি আক্তার/ অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম

আজ ব্যারিস্টার জাইমা রহমানের জন্মদিন

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ৪:৫০ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
আজ ব্যারিস্টার জাইমা রহমানের জন্মদিন

ছবি সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক:

আজ ২৫ অক্টোবর ব্যারিস্টার জাইমা জারনাজ রহমানের (জাইমা রহমান) জন্মদিন। ১৯৯৫ সালের এই দিনে ঢাকার হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। তারেক রহমান ও ডা. জুবাইদা রহমানের একমাত্র কন্যা জাইমা রহমান বাংলাদেশের একটি ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক পরিবারের সদস্য। আইন বিষয়ে উচ্চশিক্ষা এবং পেশাগত অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে তিনি নিজের পরিচিতি গড়ে তুলেছেন।

জন্মদিন উপলক্ষে শুভানুধ্যায়ীরা তার সুস্বাস্থ্য, সাফল্য ও উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করছেন। তাদের প্রত্যাশা, মেধা, আত্মবিশ্বাস ও মানবিক মূল্যবোধকে ধারণ করে আগামী দিনে আইন, সমাজ ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন তিনি।

বর্ণাঢ্য পারিবারিক ঐতিহ্য

জাইমা রহমানের বেড়ে ওঠা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের একটি পরিচিত পরিবারে। তার বাবা তারেক রহমান এবং মা ডা. জুবাইদা রহমান। তার দাদা ছিলেন বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রপতি ও বীর উত্তম খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান। দাদি সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। তার নানা ছিলেন সাবেক নৌবাহিনীপ্রধান ও মন্ত্রী রিয়ার অ্যাডমিরাল মাহবুব আলী খান।

রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে পরিচিত এই পরিবারে বেড়ে উঠলেও জাইমা রহমান আইন বিষয়ে পড়াশোনা এবং পেশাগত জীবনকে গুরুত্ব দিয়েছেন।

শিক্ষা ও আইনপেশায় অগ্রযাত্রা

জাইমা রহমান ঢাকার ইন্টারন্যাশনাল স্কুলে পড়াশোনা করেন। ২০০৮ সালে পরিবারের সঙ্গে যুক্তরাজ্যে চলে যাওয়ার পর সেখানেই তার শিক্ষাজীবন অব্যাহত থাকে।

তিনি যুক্তরাজ্যের কুইন মেরি ইউনিভার্সিটি অব লন্ডন থেকে আইন বিষয়ে স্নাতক (এলএলবি) ডিগ্রি অর্জন করেন। পরে ঐতিহাসিক আইনশিক্ষা প্রতিষ্ঠান ইনার টেম্পল থেকে ২০১৯ সালে ব্যারিস্টার হিসেবে পেশাগত যোগ্যতা অর্জন করেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের আইনপেশায় যুক্ত হওয়ার উদ্যোগ নেন তিনি। প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুনে বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের আইনজীবী তালিকাভুক্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন তিনি।

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অংশগ্রহণ

২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে অনুষ্ঠিত ৭৩তম ন্যাশনাল প্রেয়ার ব্রেকফাস্ট অনুষ্ঠানে বিএনপির প্রতিনিধি দলের সদস্য হিসেবে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে জাইমা রহমানের জীবনীসংক্রান্ত তথ্যে। ওই প্রতিনিধি দলে বিএনপির তৎকালীন মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীও ছিলেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

সফরকালে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিদের সঙ্গে তার সাক্ষাতের তথ্যও পাওয়া যায়। এসব আন্তর্জাতিক কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ তার বৈশ্বিক যোগাযোগ ও অভিজ্ঞতা অর্জনের একটি দিক হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

পরবর্তী সময়ে দলের বিভিন্ন কর্মসূচিতে তার অংশগ্রহণ নিয়েও আলোচনা হয়েছে। তবে এসব কর্মসূচির নির্দিষ্ট তারিখ ও অংশগ্রহণের বিবরণ প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।

পেশাগত জীবন ও মানবিক কর্মকাণ্ড

জাইমা রহমানের পেশাগত জীবন সম্পর্কে বিভিন্ন বিবরণে আইনপেশায় কাজ করার অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। সাংবিধানিক আইন, করপোরেট ও বাণিজ্যিক আইন এবং করসংক্রান্ত বিষয়ে কাজের অভিজ্ঞতা তার পেশাগত দক্ষতা বিকাশে ভূমিকা রেখেছে বলে সংশ্লিষ্ট তথ্যে দাবি করা হয়েছে।

এ ছাড়া সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষা ও সামাজিক উন্নয়নে কাজ করা সংস্থা ‘সুরভী’র সঙ্গে তার সম্পৃক্ততার কথাও উল্লেখ রয়েছে। শিক্ষা বিস্তার, সামাজিক অন্তর্ভুক্তি, লিঙ্গসমতা এবং মানুষের অধিকার নিশ্চিত করার মতো বিষয়গুলোকে কেন্দ্র করে কাজ করার আগ্রহের কথাও তার সম্পর্কে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে।

জন্মদিনে শুভানুধ্যায়ীদের প্রত্যাশা, ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবনে সাফল্যের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে মানুষের কল্যাণে অবদান রাখবেন জাইমা রহমান।

শুভ জন্মদিন, ব্যারিস্টার জাইমা রহমান।

তুলি আক্তার/ অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম